ডিজিটাল মার্কেটিং কি? ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে করবো ?

প্রারম্ভিকঃ

বর্তমানে বিশ্ব জুড়ে ইন্টারনেটের ব্যবহার  দিন দিন ক্রমশ  বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সাথে প্রায় সব মানুষ অনলাইন নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।  আজকাল ঘরে বসেই সবাই অনলাইনের মাধ্যমে কেনাকাটা করে  তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের প্রয়োজন পূরণ করছে।  কাজেই একজন বিজনেসম্যান  এর ক্ষেত্রে পুরনো যুগের মতো ট্রেডিশনাল  মার্কেটিং নিয়ে পড়ে থাকা নিতান্তই বোকামি। আপনাকে অবশ্যই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আপনার ব্যবসা কে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

বর্তমানে ইন্টারনেটের ব্যবহার যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, মানুষ সকল কাজকর্মে ইন্টারনেটের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এমনকি খাবারও ঘরে বসে অর্ডার করে নিজেদের চাহিদা পূরণ করছে। একজন বিজনেসম্যান এর হিসেবে প্রোডাক্ট সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দেওয়ার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং এর চেয়ে সহজ কোনো উপায় আর নেই। ব্যবসায় সফলতা লাভ করার জন্য এ ব্যতীত অন্য পন্থা এই যুগে আর হয়না।

ক্যারিয়ার গড়ার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং খুব ভালো একটি ইনকাম সোর্স। ডিজিটাল মার্কেটিং করে মার্কেটররা অনায়াসে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা খুব কম খরচে তাদের পণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে যেকোনো প্রোডাক্ট বিক্রয় করার জন্য দোকান এর ও প্রয়োজন পড়ে না। শুধুমাত্র মার্কেটিং এর মাধ্যমে ঘরে বসেও ব্যবসা করা যায়। তাই ক্যারিয়ার ডেভেলপার এবং বিজনেসম্যান এর জন্য  ডিজিটাল মার্কেটিং কি এই সম্পর্কে জানা খুবই জরুরী। ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে একদিকে বিক্রেতারা যেমন ঘরে বসে পণ্য বিক্রয় করতে পারছে, অন্যদিকে ত্রেতারাও ঘরে বসেই পছন্দমতো জিনিস বাছাই করে কিনতে পারছে।  

বর্তমানে বাংলাদেশেও ডিজিটাল মার্কেটিং পদ্ধতি একটি বড় অংশ দখল করে নিয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা কম সময়ে অনেক পণ্য বিক্রয় করতে পারছে এবং এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় পৌঁছে দিতে পারছে। এতে যেমন ক্রেতারা তাদের সময় বাঁচাতে পারছে, তেমনি বিক্রেতা এবং মার্কেটররা দ্রুত সফল হয়ে উঠছে।

ডিজিটাল মার্কেটিং কি?

ডিজিটাল মার্কেটিং হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে ডিজিটাল মিডিয়া, ইন্টারনেট, অথবা  ডিজিটাল টেকনোলজি ব্যবহার করে যেকোনো পণ্য মানুষের কাছে বিক্রি করা হয়। মূলত বিভিন্ন উপায়ে পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে অথবা ভালো দিক তুলে ধরে সেই পণ্য মানুষের কাছে বিক্রি করাকে মার্কেটিং বলা হয়। আর সেই মার্কেটিং এর সমস্ত কাজ যদি ইন্টারনেট অথবা ডিজিটাল টেকনোলজি ব্যবহার করে করা হয় তাহলে তাকে ডিজিটাল মার্কেটিং বলে।

সুতরাং, দেখতেই পারছেন ডিজিটাল মার্কেটিং এখন বৃহৎ পরিসরে সব জায়গায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর সুবিধাঃ

  • ঘরে বসে সহজেই প্রোডাক্ট এর বিজ্ঞাপন দিয়ে সেল বৃদ্ধি করা যায়।
  • যেকোনো প্রোডাক্ট সম্পর্কে মানুষকে  বিস্তারিত ধারণা দেওয়া যায়।
  • ক্রেতার মতামত সহজেই জানা যায় এবং পণ্যের মান উন্নয়ন করা সহজ হয়।
  • বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছে পণ্য বিক্রয় করা যায়।
  • ইন্টারনেটে কাস্টমারদের সেবা প্রদান করা সহজ হয়।
  • এডভার্টাইজিং এর মাধ্যমে পণ্যকে একটা ব্রান্ডে পরিণত করা যায়।
  • ক্রেতাদের সাথে সহজেই সুসম্পর্ক সৃষ্টি করা যায়।
  • মানসম্মত দুর্লভ পণ্য দ্বারা ক্রেতাদের আকর্ষণ করা যায়।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর ধাপগুলো কি কি?

অনলাইনে বিভিন্ন জিনিস ক্রয় বিক্রয় এর ক্ষেত্রে ডিজিটাল মার্কেটিং অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে আপনার প্রোডাক্ট এবং কোম্পানিকে বিশ্বজুড়ে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করতে হবে। তাহলেই আপনি একজন সফল মার্কেটর অথবা সফল ব্যবসায়ী হয়ে উঠতে পারবেন। ডিজিটাল মার্কেটিং এর ধাপগুলো হচ্ছেঃ

  • ই-কমার্স মার্কেটিং
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং
  • কন্টেন্ট মার্কেটিং
  • ইমেইল মার্কেটিং
  • ইনভাউন্ড মার্কেটিং
  • ডিস্প্লে এডভার্টাইজিং
  • সি পি এ মার্কেটিং
  • সোশাল মিডিয়া বা এস এম এম মার্কেটিং
  • এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন
  • এসইএম বা সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং

এইসব ধাপ অবলম্বন করার মাধ্যমে আপনি একজন সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারেন এবং বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং করার কারণঃ

আপনি আপনার পণ্যের প্রচারণা যত বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌছাবেন, তত বেশি মানুষ আপনার পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট হবে। সেইসাথে আপনার সেলও বৃদ্ধি পাবে। তাই একজন মার্কেটর অথবা ব্যবসায়ী এর মূল লক্ষ্য ই হবে বিভিন্ন জনপ্রিয় অনলাইন প্লাটফর্মে পণ্যের ভালো দিকগুলা তুলে ধরা। ডিজিটাল মার্কেটিং এ সফল হতে হলে কত সহজে কাস্টোমার পাওয়া যায় সেই পথ বের করাই প্রধান কাজ। এক্ষেত্রে যে মিডিয়াগুলোতে বেশি সংখ্যক মানুষ অবস্থান করে সেই জায়গাতে পণ্যের প্রচার করাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ মার্কেটিং এর প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে প্রোডাক্ট সম্পর্কে মানুষকে জানিয়ে দেওয়া। আপনি যদি এই যুগে ডিজিটাল মার্কেটিং না করেন তাহলে আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দ্রুত সফল হতে পারবেন না।

বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম এবং ই-কমার্স পোর্টাল প্রোডাক্ট প্রচারের একটি ভালো মাধ্যম। এক্ষেত্রে আপনি যদি কোনো ব্রান্ডের প্রোডাক্ট প্রচার করতে চান তাহলে অবশ্যই একটি ভালো সাইটে তা প্রচার করতে হবে। আগের দিনে ফেরিওয়ালা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পণ্য সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দিয়ে বেড়াত। তারপর রেডিও, ম্যাগাজিন, সংবাদপত্র, ও টেলিভিশনের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে থাকে। কারণ সেই সময়গুলোতে সংবাদপত্র পড়ে, রেডিও, টেলিভিশন দেখে মানুষ বেশি সময় ব্যয় করত। কিন্তু এখন মানুষ ইন্টারনেটে সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করে।

অপরদিকে ডিজিটাল মার্কেটিং একটি সহজলভ্য পন্থা। এর মাধ্যমে আপনি কম খরচে আপনার প্রোডাক্ট প্রচার করে প্রোডাক্টের চাহিদা বৃদ্ধি করতে পারেন। একসময় প্রোডাক্ট প্রচার করার জন্য বিজ্ঞাপন দিতে গেলে অনেক টাকার প্রয়োজন হত। টেলিভিশনে একটা প্রোডাক্ট এর বিজ্ঞাপন দিতে গেলেই ৫-১০ লক্ষ টাকা লাগে। আবার আপনি যদি সেলিব্রেটি দিয়ে বিজ্ঞাপন করাতে চান তাহলে সেক্ষেত্রে ১৫-২০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন হয়। ক্ষুদ্র এবং মাঝারি পরিসরের ব্যবসায়ীদের জন্য এই খরচ অনেক ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। তারা ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে কম খরচে বিজ্ঞাপন তৈরি করতে পারে এবং ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটাতে পারে। আপনি ডিজিটাল মার্কেটে ৫ ডলার থেকে শুরু করে কোটি টাকা খরচ করে খুব সহজে ঘরে বসে পণ্যের প্রচার ঘটাতে পারবেন। এইজন্যই উন্নত দেশগুলোতে প্রায় সব পণ্য অনলাইনে ক্রয় বিক্রয় এবং প্রচার প্রসারণ করা হয়ে থাকে।      

ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে করবো ?

আপনার প্রোডাক্টের ধরণ, কোম্পানির সামর্থ্য, কোম্পানির ধরণ, এবং ব্যবসার পরিসরের ওপর বিবেচনা করে আপনাকে একটি সঠিক পোর্টাল অথবা প্লাটফর্ম বেছে নিতে হবে। অনলাইনে অনেক প্লাটফর্ম এবং ই-কমার্স পোর্টাল রয়েছে যেখানে আপনি আপনার প্রোডাক্টের প্রাচার ঘটাতে পারেন। অনেক প্লাটফর্মের মধ্যে নিচের প্লাটফর্মগুলো খুবই জনপ্রিয়।

গুগল এডওয়ার্ডসঃ

মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হচ্ছে গুগল এডওয়ার্ডস। এই মাধ্যমে প্রোডাক্টের প্রচারণার জন্য গুগলকে টাকা পরিশোধ করতে হয়। এখানে বিভিন্ন কিওয়ার্ডকে টার্গেট করে বিজ্ঞাপন বা মার্কেটিং করা হয়। বিভিন্ন ব্লগ পোস্ট, ওয়েবসাইট, এবং ইউটিউবের হেডলাইন, পোস্টের নিচে, বামে, ডানে, ভেতরে, হেডারে যে বিজ্ঞাপনগুলো দেখতে পান সেগুলোই হলো গুগল এডওয়ার্ডস এর বিজ্ঞাপন।

প্রোডাক্ট পছন্দ হলে একজন ক্রেতা বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার পরে নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে সেই প্রোডাক্ট ক্রয় করতে পারে। বিজ্ঞাপনের ক্লিক এবং ভিউ এর ওপর গুগল এর ফি কত হবে তা নির্ভর করে।

এফিলিয়েট মার্কেটিংঃ

বর্তমানে বিশ্ববাজারে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর প্রচলন অনেক বেড়ে গিয়েছে। সাধারণত কোনো কোম্পানির প্রোডাক্ট বিক্রি করে দিয়ে কমিশন ভোগ করার নামই এফিলিয়েট মার্কেটিং। আপনি যদি একজন ব্যবসায়ী হয়ে থাকেন তাহলে এর মাধ্যমে আপনি অন্য একজনের সাথে অনলাইনে আপনার প্রোডাক্ট বিক্রি করে দেওয়ার চুক্তি করতে পারবেন। মার্কেটর এজন্য আপনার থেকে কমিশন নিবে। এভাবে একটি প্রোডাক্টের সেল বৃদ্ধি করা যায়।

ইমেইল মার্কেটিংঃ

ইমেইল মার্কেটিং হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্যতম একটি প্লাটফর্ম। এর মাধ্যমে ছোট বড় অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের সেল বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের আয় বৃদ্ধি করছে। এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরি এবং বয়সের মানুষের ইমেইল অ্যাড্রেস সংগ্রহ করতে হয়। তারপর সেইসব ইমেইল অ্যাড্রেসে নির্ধারিত পণ্যের বিবরণ দিয়ে লিংক পাঠানো হয়। ইমেইলের লিংকের পণ্য পছন্দ হলে ক্রেতা পণ্য কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে এবং এভাবেই ইমেইল মার্কেটিং করা হয়ে থাকে।

কন্টেন্ট রাইটিংঃ

কন্টেন্ট বলতে সাধারণত বিভিন্ন ই-বুক, ব্লগ পোস্ট, এবং ভিডিওকে বুঝানো হয়। বিভিন্ন কোম্পানি অথবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিজেদের ওয়েবসাইট তৈরি করে থাকে। ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ব্লগ পোস্ট ও কন্টেন্টের মাধ্যমে প্রোডাক্টের রিভিউ মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ক্রেতারা কোনো পণ্য কেনার আগে প্রথমে অনলাইনে সেই পণ্যের গুণাগুণ, ভালো দিক, খারাপ দিক, ও দাম জানার জন্য সার্চ দিয়ে থাকে। সার্চ দেওয়ার পর কন্টেণ্টের কোনো পণ্য পছন্দ হলে নির্ধারিত পণ্য ক্রয়ের জন্য সেলারের সাথে যোগাযোগ করে।

মোবাইল এপস মার্কেটিংঃ

টেকনোলজির যুগে এখন মানুষের হাতে হাতে স্মার্টফোন  দেখা যায়। স্মার্টফোনে গুগল প্লে স্টোর ও এ্যাপল স্টোরে বিভিন্ন ধরণের এপস রয়েছে যেগুলোতে প্রোডাক্ট প্রমোট করা হয়ে থাকে। মানুষ যেসব এপস চালাতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে অথবা বহুল প্রচলিত এপসগুলোতে পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। অন্য আর একটি উপায় হচ্ছে গুগল এডমুব যার মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে সব ধরণের মোবাইল এপসে পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়া যায়।

ইউটিউব মার্কেটিংঃ

এখনকার যুগে মানুষ অবসর সময়ে টেলিভিশনের চেয়ে ইউটিউবেই বেশি সময় কাটায়। যেকোনো পণ্য প্রচারের ক্ষেত্রে ইউটিউব একটি জনপ্রিয় প্লাটফর্ম। এটি এখন বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে কারণ ইউটিউবে সব ধরণের ভিডিও পাওয়া যায় বলে বেশির ভাগ মানুষ ইউটিউবেই স্বাচ্ছন্দবোধ করে থাকেন। অনেক মানুষের জমায়েত দেখে বিভিন্ন কোম্পানি ও মার্কেটররা পণ্যের বিজ্ঞাপনের জন্য ইউটিউবকে কাজে লাগাচ্ছে।

সাধারণত দুই উপায়ে ইউটিউবের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন তৈরি করা যায়। একটি হচ্ছে প্রচলিত ইউটিউব চ্যানেলের সাথে কন্টাকের ভিত্তিতে পণ্যের স্পন্সর্ড ভিডিও অথবা রিভিউ যুক্ত করা। ভিডিও সম্মর্কিত পণ্য প্রচারনার ক্ষেত্রে ইউটিউব বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অপরটি হলো গুগল এডওয়ার্ডের সাহায্যে সরাসরি হেডলাইন আকারে ইউটিউবে পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়া।  

এসইও অথবা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনঃ

সাধারণত মানুষ যখন গুগলে কোনো প্রোডাক্ট কেনার জন্য সার্চ করে তখন ওয়েবসাইটের অ্যাড্রেস লিখে সার্চ করে না। মানুষ প্রোডাক্টের নাম অথবা গুণাগুণ লিখে সেই প্রোডাক্ট খুঁজে। এক্ষত্রে যার প্রোডাক্ট লিংক যত ওপরে আসবে, ভিজিটররা তত তার প্রোডাক্ট কেনার আগ্রহ প্রকাশ করবে। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে ওয়েবসাইটের ভিজিটর অথবা ট্রাফিক বৃদ্ধি করা যায়।

অতএব, আপনার ওয়েবসাইট সহজেই মানুষের চোখে পড়ার জন্য এসইও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন এসইও এক্সপার্ট সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইটের প্রোডাক্ট সহজেই মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে।

সোশাল মিডিয়া মার্কেটিংঃ

ইন্টারনেটে সোশাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্লাটফর্ম রয়েছে। এখন আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি কোন প্লাটফর্মে আপনার পণ্যের প্রচারণা করবেন। আপনি যদি কোনো ব্রান্ডের পণ্য মার্কেটিং করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে ভালো, লোকাল মিডিয়া ব্যবহার করতে হবে।                         

সোশাল মিডিয়া মার্কেটিং এর মধ্যে ইনস্ট্রাগ্রাম মার্কেটিং, পিনটারেস্ট মার্কেটিং, লিংকডিএন মার্কেটিং, ফেসবুক মার্কেটিং, টুইটার মার্কেটিং, ও স্নাপচ্যাট মার্কেটিং বহুল ব্যবহৃত।

দুই ধরণের সোশাল মিডিয়া মার্কেটিং রয়েছে। একটি হচ্ছে পেজ তৈরি করার মাধ্যমে ফ্রি প্রোডাক্ট শেয়ারিং, অন্যটি হচ্ছে বড় বড় মার্কেটরদের সাথে কন্টাকের মাধ্যমে পেইড মার্কেটিং। ছাইলে আমাদের সাথে ও যোগাযোগ করতে পারেন।

শেষ কথাঃ

বর্তমানে যেমন ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, ভবিষ্যতে এর ব্যবহার আরও কয়েকগুন বৃদ্ধি পাবে। এর দ্বারা ট্রেডিশনাল মার্কেটিং এর তুলনায় দ্রুত আপনার প্রোডাক্ট মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন।

একজন ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে প্রোডাক্ট প্রমোটের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং জানা যেমন জরুরী, তেমনি ডিজিটাল মার্কেটারের জন্যও এর ধাপগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ। পরিশেষে, উভয় ক্ষত্রেই ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্ব অপরিসীম।                                                                

1 thought on “ডিজিটাল মার্কেটিং কি? ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে করবো ?”

Leave a Comment

Pinterest
Instagram
WhatsApp