SEO-এসইওকি? কিভাবে এসইও শিখবো?

প্রাওরম্ভিকঃ

আমরা প্রতিদিন গুগল, ইয়াহু, বিং ইত্যাদি মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয় সার্চ করে থাকি। বর্তমান সময়ে মানুষ ইন্টারনেটের প্রতি ব্যাপকভাবে ঝুঁকে পড়েছে। এর ফলে, যেকোনো ব্যাপারেই ইন্টারনেটের সাহায্য নিতে তারা বিলম্ব করছে না। মার্কেটররা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের আর্টিকেল এবং প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন দিয়ে সেল সংখ্যা বৃদ্ধি করে। এই ওয়েবসাইটগুলো মানুষের নজরে যত বেশি আসবে, তত বেশি লাভবান হওয়া যাবে। বিভিন্ন ব্লগারদেরও চাহিদা থাকে যেনো মানুষ সার্চ করার সাথে সাথে তাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারে। এক্ষেত্রে এসইও অথবা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের ব্যবহার করে ব্লগিং সাইট এবং মার্কেটিং সাইটগুলো খুব সহজে মানুষের নাগালে নিয়ে আসা যায়। অনেক মাধ্যম আছে যেগুলোতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সার্চ করা যায়। গুগল হলো সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ মাধ্যম। 

এসইও কি?

এসইও (SEO) ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্যতম  একটি সেক্টর।এসইও (SEO) এর পূর্ণরূপ হলো Search Engine Optimization. বর্তমানে সার্চ মাধ্যম হিসেবে Google সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। Google, yahoo, bing, এবং আরো সার্চ মাধ্যমগুলোতে সার্চ করার পরে ওয়েবসাইট এবংইনফরমেশনগুলো অনেকগুলো পেজে সীমাবদ্ধ থাকে। বেশির ভাগ মানুষ প্রথম পেজের সাইটগুলোতেই বেশি মনোযোগী হয়। এক্ষেত্রে ভিজিটর্স বাড়ানোর জন্য একই বিষয় নিয়ে ব্লগারদের মধ্যে প্রতিযোগীতা শুরু হয়ে যায়। যে সাইটগুলো পেজের প্রথম সারিতে থাকবে, সেগুলোই বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছাবে। আর আপনি যদি একজন মার্কেটর হয়ে থাকেন, এভাবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করে অনলাইন মার্কেটিং এর মাধ্যমে সহজেই লাভবান হতে পারবেন।

সার্চ করার পরে মানুষ যত দ্রুত এবং সহজে আপনার সাইট খুঁজে পাবে, আপনার ব্লগিং অথবা মার্কেটিং ইনকাম তত বাড়বে।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন অথবা এসইও তে দুইটি অর্থবহুল শব্দ রয়েছে। একটি হলো সার্চ ইঞ্জিন এবং অপরটি হলো অপটিমাইজেশন। কোনো বিষয়ে সার্চ করার জন্য যে সমস্ত কিওয়ার্ড বেশি ব্যবহার করা হয় সেগুলোর দিয়ে কোনো সাইট খুঁজে পাওয়ার সফটওয়ার অথবা এপ্লিকেশন কেই সার্চ ইঞ্জিন বলা হয়।

অপরদিকে সার্চ ইঞ্জিনের প্রতি সাড়া দিয়ে কোনো ওয়েবসাইটকে প্রথম পেজে রাঙ্কিং করার জন্য ওয়েবসাইটের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরিণ দিকগুলোকে অপটিমাজেশন করার প্রক্রিয়াকেই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বলা হয়।

যেভাবে সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে একটি ব্লগকে সবার ওপরে দেখায়ঃ

কিভাবে এসইও-SE0-শিখবো_-Dmrahman

সার্চ ইঞ্জিন ভালোমানের ইনডেক্স ডাটার ওপর ভিত্তি করে একটি সার্চ কিওয়ার্ডের সকল সাইটগুলোকে ক্রমান্বয়ে শো করে থাকে।

যে সাইটের ব্লগ যত উন্নত এবং মানসম্মত সেই সাইটগুলো তত বেশি উপরে দেখা যাবে। এক্ষেত্রে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনি যদি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন না করেন তাহলে আর্টিকেল এবং ব্লগ ভালো হওয়া সত্বেও আপনার পেজ রাংকিং এ নিচে চলে যেতে পারে। সুতরাং, অধিক সংখ্যক ভিওয়ার্স পেতে গেলে অবশ্যই আপনাকে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সম্পর্কে জানতে হবে এবং কিভাবে এটি ব্যবহার করা হয় তা শিখতে হবে।

কিভাবে আমরা এসইও অথবা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন শিখতে পারব?

আপনি যদি কোনো ব্লগিং সাইট, মার্কেটিং সাইট, অথবা অন্যান্য ওয়েবসাইটের স্বতাধিকারী হয়ে থাকেন, আপনাকে অবশ্যই আপনার সাইটকে সার্চ মাধ্যমের প্রথম পেজে আনার চেষ্টা করতে হবে। আর এইজন্য সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাজেশন সম্পর্কে জানা এবং শেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিভাবে আপনি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন শিখতে পারবেন সে সম্পর্কে আজকে আমরা বিশদ আলোচনা করব।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর প্রকারভেদঃ

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন শেখার জন্য প্রথমেই আমাদের জানতে হবে এটি কত প্রকার ও কি কি? প্রকারভেদ জানার মাধ্যমে এর পরিধি এবং ব্যবহার সম্পর্কে জানতে সুবিধা হবে। সেইসাথে সার্চ ইঞ্জিন এর ধাপ এবং ব্যবহারের ক্ষেত্র ও জানা যাবে।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সাধারণত দুই প্রকার। সেগুলো হলোঃ

  • হোয়াইট হ্যাট সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন অথবা White hat SEO.
  • ব্ল্যাক হ্যাট সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন অথবা Black hat SEO.

হোয়াইট হ্যাট এসইওঃ

হোয়াইট হ্যাট এসইও এমন একটি পদ্ধতি যেখানে বৈধ উপায় অবলম্বন করে যেকোনো ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করা হয়। হোয়াইট হ্যাট এসইও তে কোনো প্রকার রিক্স ছাড়াই সব ধরণের সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করা যায় এবং যেকোনো সার্চ মাধ্যমের প্রথম পেজে আনা যায়। এক্ষেত্রে ওকটি সাইটকে প্রথম পেজে আনার জন্য আপনাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।

হোয়াইট হ্যাট এসইও আবার দুই প্রকার। যেমনঃ

  • অর্গানিক অথবা Organic SEO
  • পেইড অথবা Paid SEO

অর্গানিক এসইওঃ

অর্গানিক এসইও সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের এমন একটি পদ্ধতি যেখানে বুদ্ধি খাটিয়ে সাইটের কিছু নির্দিষ্ট পরিবর্তন ঘটিয়ে গুগলকে বুঝাতে হয় আপনার সাইটের ইনফরমেশন সম্পর্কে। তাহলেই গুগল আপনার সাইটকে প্রথম পেজের র‍্যাংকিং এ স্থান পেতে সমর্থন করবে। উল্লেখ্য যে, অরগানিক এসইও তে নিজ পরিশ্রমে সাইট রাংকিং করা হয় আর এজন্য গুগলকে কোনো টাকা দেওয়া হয় না।

অর্গানিক এসইও কে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। সেগুলো হলোঃ

  • অনপেজ অথবা Onpage SEO
  • অফপেজ অথবা Offpage SEO

অনপেজ এসইওঃ

অনপেজ এসইও-SE0-Dmrahman

অনপেজ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে ওয়েবসাইটের অভ্যন্তরে এমন কিছু পরিবর্তন করা হয় যাতে সার্চ ইঞ্জিন সহজেই আপনার ওয়েবসাইট সম্পর্কে জানতে পারে এবং খুঁজে পায়। অনপেজ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন খুবই দক্ষতার সাথে করতে হয়। কারণ একটু ভুল হলেই গুগলে সার্চ ইঞ্জিন আপনার ওয়েবসাইটকে আর খুঁজে পাবে না। তাহলে আপনার সাইট রাংক করাও কঠিন হয়ে যাবে। অনপেজ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করতে গেলে আপনাকে নিম্নের কাজগুলো করতে হবে।

  • Web analytics
  • Content Optimization
  • Image Optimization
  • Keyword research/ Keyword Optimization
  • Meta Description Optimization
  • Html tag H1,H2,H3 Optimization
  • Index sitemap
  • No follow, Do follow
  • Domain Name Optimization
  • Title Optimization
  • Verify google webmaster tools
  • Increase website speed
অফপেজ এসইওঃ

সার্চ ইঞ্জিন ছাড়া অন্য যেকোনো উপায়ে যখন ওয়েবসাইটের ভিজিটর বৃদ্ধি করা হয়, তখন তাকে অফপেজ এসইও বলা হয়। বিভিন্ন জনপ্রিয় ফার্ম এবং ওয়েবসাইটে আপনার লিংক শেয়ার অথবা সোশাল মিডিয়াগুলোতে লিংক শেয়ার করার মাধ্যমে অফপেজ এসইও করা হয়ে থাকে। এটি বড় পরিসরের দীর্ঘ একটি কাজ। তাই ধৈর্য ধরে নিয়মিত অফপেজ এসইও করে গেলেই আপনি সফলতা লাভ করতে পারবেন।

অফপেজ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করতে গেলে আপনাকে নিম্নের কাজগুলো করতে হবে।

  • Image Submission
  • Directory Submission
  • Guest Post
  • Email marketing
  • Social Bookmarking
  • Review Submission
  • PDF Submission
  • Web 2.0
  • Video Submission
  • Link Building
  • Forum posting
  • Article Submission

পেইড এসইওঃ

পেইড এসইও হলো এমন একটি এসইও সিস্টেম যেখানে এসইও করানোর জন্য গুগলের সাথে চুক্তি করতে হয়। এই পদ্ধতিতে গুগলের মাধ্যমে খুব কম সময়ে প্রচুর ভিজিটর পাওয়া যায় এবং সাইটকে প্রথম পেজের সবার উপরে আনা যায়। উল্লেখ্য যে, এ পদ্ধতিতে আপনার গুগলকে টাকা পরিশোধ করতে হবে। যে কয়জন ভিজিটর ক্লিক করবে সে অনুযায়ী প্রতি ক্লিকে গুগলকে টাকা দিতে হবে।

ব্ল্যাক হ্যাট এসইওঃ

এক্ষেত্রে বৈধ উপায় অবলম্বন না করে অবৈধ উপায় ব্যবহার করে স্প্যামিং এর মাধ্যমে এসইও করা হয়। গুগলকে বোকা বালিয়ে এভাবে সাইট র‍্যাংক করা সার্চ ইঞ্জিন সমর্থন করে না। এটা যেহেতু অস্থায়ী তাই গুগল যেকোনো সময় আপনার সাইটকে প্লান্টি দিতে পারে। তারপর আপনি আর কখনোই আপনার সাইট র‍্যাংক করাতে পারবেন না। এসব অসুবিধার কারণে এই পদ্ধতি অবলম্বন না করাই ভালো।

এসইও শেখার উপায়ঃ

এসইও শেখায় এমন অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিছু কিছু বড় প্রতিষ্ঠান খুব ভালোভাবে এসইও শেখায়। এজন্য তারা অনেক বড় অংকের টাকা দাবি করে। কিন্তু যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো না তাদের জন্য এটি ব্যয়বহুল। এর ফলে অনেকের শখ থাকার পরেও তারা এসইও কোর্স করতে পারে না। ছোট ছোট কিছু প্রতিষ্ঠান কম খরচে লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। এদের বেশিরভাগই প্রতারক। তাই এদের কাছে থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়। তবে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান আসলেই ভালো শিখিয়ে থাকে। কিন্তু তা বাছাই করা কষ্টকর। আবার আপনি কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তির থেকেও এসইও শিখে নিতে পারেন।

এসইও শেখার সব ধরণের কৌশল ইন্টারনেটেই রয়েছে। শুধু আপনাকে কষ্ট করে খুঁজে বের করতে হবে। খুঁজে পাওয়ার জন্য আপনাকে অনেক রিসার্চ করতে হবে। শুধুমাত্র কিছু বেসিক ইন্টারনেট ব্যবহার করে খুব সহজেই আপনি এসইও ভালোভাবে আয়ত্ব করতে পারবেন।

একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো, এসইও সম্পর্কে পূর্ণরূপে জানার জন্য আপনাকে অবশ্যই ভালো ইংরেজি জানতে হবে।

আপনি এসইও সম্পর্কে বিভিন্ন রিসার্চ আর্টিকেল খুঁজে বের করতে পারেন। ইউটিউবে এসইও বিষয়ে অনেক ফ্রি ভিডিও রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি এসইও সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। মূলকথা আপনাকে ইন্টারনেট ব্যবহার এমনভাবে শিখতে হবে যেন আপনি খুব সহজে যেকোনো জায়গা থেকে তথ্য নিয়ে সেগুলো কাজে লাগাত পারেন। এসবের দ্বারা কিছু সময় পরে দেখবেন আপনি এসইও তে অনেক দক্ষ হয়ে উঠেছেন।

এসইও আপনার সাইটকে সইজেই মানুষের নাগালে পৌঁছে দেয়। এভাবে প্রতিদিন হাজার হাজার ভিজিটর আপনার সাইটে  প্রবেশ করতে পারে একটি  সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন জানার জন্য, বুঝার জন্য, এবং সঠিকভাবে অ্যাপ্লাই করার জন্য এসইও কি? কিভাবে এসইও কাজ করে? এটি ভালোভাবে শেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

3 thoughts on “SEO-এসইওকি? কিভাবে এসইও শিখবো?”

  1. এসইও নিয়ে খুব সুন্দর এবং ভালোমানের ইনফরমেশন ছিল। এখানে প্রতিটা পয়েন্ট পড়ে অনেক কিছু শিখতে পারলাম। ধন্যবাদ এমন সুন্দর টিপস শেয়ার করার জন্যে।

    Reply

Leave a Comment

Pinterest
Instagram
WhatsApp